অযোধ্যায় শ্রীরামচন্দ্র মূর্তির শিল্পী পশ্চিমবঙ্গের জামালউদ্দিন/তমাল সাহা

অযোধ্যায় শ্রীরামচন্দ্র মূর্তির শিল্পী পশ্চিমবঙ্গের জামালউদ্দিন
তমাল সাহা

শ্রীরামচন্দ্র হিন্দু নাম হলেও জামালউদ্দিন আরবি নাম।
শ্রীরামচন্দ্র এবং জামালউদ্দিনের নাম বর্তমান সময়ে একাকার হয়ে গিয়েছে। এতে পশ্চিমবঙ্গের যোগসূত্র রয়েছে।

অযোধ্যা, শ্রীরামচন্দ্র, রামমন্দির– এই শব্দ তিনটি এখন বোধ করি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়ে গিয়েছে। ভারতবর্ষের মায়ের গর্ভে থাকা শিশুরা পর্যন্ত এই শব্দ তিনটি শুনে ফেলেছে।

২২ জানুয়ারি ২০২৪ অযোধ্যার সেই বিশাল রামমন্দিরের চত্বরে যে জয় শ্রীরাম মূর্তিটি বসবে সেই মূর্তির কারিগরিতে রয়েছে ভাস্কর শিল্পী মহম্মদ জামাল উদ্দিনের কারিগরি।

গাঙ্গেয় উপত্যকায় বাঙালির গর্ব বোধ করি বেড়ে গেল। তাদের বুকের ছাতির মাপ কত ইঞ্চি ছাড়ালো কে জানে? কারণ উত্তর চব্বিশ পরগনার দত্তপুকুর পালপাড়ার মৃৎশিল্পী মোঃ জামাল উদ্দিন।
সাম্প্রদায়িক সংহতি ও ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠল নিশ্চিতভাবে পশ্চিমবাংলা এবং তার মূল ভূমিকায় রয়েছেন মোঃ জামালউদ্দিন।

তার হাতে অর্থাৎ মুসলিম শিল্পীর হাতে তৈরি ১৬ ফুটের হিন্দু ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি স্থাপিত হতে চলেছে অযোধ্যায়। এই মূর্তি তৈরিতে জামাল ভাইয়ের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন তার ছেলে বিট্টু।

শিল্পী জামাল জানান, দত্তপুকুরের পালপাড়ায় তার মৃৎশিল্পের কারখানা রয়েছে। তিনি সেখানে হিন্দু দেব-দেবী দুর্গা কালী সব মূর্তি তৈরি করেন মাটিতে এবং ফাইবারে। তিনি বলেন, এই মূর্তি বানানোর কাজ শিখে তিনি হায়দ্রাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে ব শিক্ষানবিশী করেছেন। তিনি বর্তমান সময়ে
১৬ ফুটের ফাইবারে দুটি শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি তৈরি করেছেন। রাম মন্দির ট্রাস্টের কর্মকর্তারা তার এই দত্তপুকুরের পাল পাড়ার বাড়িতে এসেছিলেন প্রায় দু বছর আগে। তারাই এই মূর্তি দুটির নকশা ও বরাত দিয়ে গিয়েছিলেন। এই মূর্তি দুটি বানাতে সময় লেগেছে প্রায় দেড় বছর। তিনি বলেন, মূর্তি দুটি বানিয়ে পারিশ্রমিক হিসাবে তিনি পেয়েছেন ৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

শ্রীরাম কথার অর্থ বিশাল সৌন্দর্য। জামাল কথার অর্থ সৌন্দর্য এবং উদ্দিন কথার অর্থ বিনম্র বিজয়ী।
জানা নেই মুসলমানের হাতে ছোঁয়া, হাতে গড়া শ্রীরামচন্দ্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠলেন, না অস্পৃশ্য হয়ে গেলেন?