অবতক খবর , রাজীব মুখার্জী, হাওড়া : অযোধ্যায় সরযূ নদীর তীরে রাম মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন হয়েছে। সেই নিয়ে হিন্দুত্বের আবহ তৈরি হয়েছে। সেই হিন্দুত্বের ঢেউ এসে পড়লো হাওড়ার রামরাজাতলার রাম মন্দিরে। আনুমানিক ৪০০ বছর পূর্বে হাওড়া রামরাজাতলায় রাম ঠাকুরের এই মন্দির স্থাপিত করেছিলেন অযোধ্যা রাম চৌধুরী মহাশয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায় তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন স্বয়ং পুরুষোত্তম রাম। তারপর থেকে এই রামরাজাতলার এই রাম মন্দিরেই প্রতিষ্ঠিত হন মৌর্যয়াদা পুরুষোত্তম রাম। প্রথমে ছোট করে হলেও কালের নিয়মে ধীরে ধীরে তা বর্তমান রূপে এসে দাঁড়ায়। এই দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে সাড়ম্বরে রাম ঠাকুরের বিসর্জন যাত্রা পালন করা হলেও ২০২০ সালে বিসর্জন যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে করোনা র প্রভাব। সেই প্রভাবের ফলে রাজ্য জুড়ে চলছে সাপ্তাহিক লকডাউন। হাওড়া জেলায় যেভাবে করোনার প্রকোপ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে করোনা কে প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে হাওড়া জেলাতেও চলছে সাপ্তাহিক লকডাউন।
রাম ঠাকুরের মন্দির কমিটির সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায় হাওড়া সিটি পুলিশের তরফ থেকে এবারের রাম যাত্রা বিসর্জন অনুষ্ঠান স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। মন্দির কমিটির কর্মকর্তাদের এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছুই বলা হয়নি কি উপায়ে রাম ঠাকুরের বিসর্জন প্রক্রিয়া চালানো হবে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে স্বভাবতই ধোঁয়াশায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে কমিটির কর্মকর্তারাও। এই পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল রামরাজাতলা জুড়ে পরল অভিনব পোস্টার। সেই পোস্টারে লেখা আছে “রাম ঠাকুরের বিসর্জন বন্ধ হলো কার স্বার্থে রাজ্য সরকার জবাব দাও “এই পোস্টটার কে ঘিরে হাওড়া বাসির মধ্যে এখন চরম উৎকণ্ঠা এবং আলোড়ন পড়েছে। মন্দির কমিটির তরফ থেকে বক্তব্য কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়ে গেছে তারা নিজেরাও জানেন না।
কমিটির বক্তব্য সুদূর অতীতে এই মন্দিরে মা সারাদা দেবী এসে মন্দির সংলগ্ন পুকুরে স্নান করে রাম ঠাকুরের পুজো দিয়ে গেছেন। এবারে সেই ঐতিহ্যমন্ডিত রাম ঠাকুরের বিসর্জন কে ঘিরে বাকবিতণ্ডা উঠেছে চরমে। প্রতি বছর এই রাম ঠাকুরের বিসর্জনকে ঘিরে যে উন্মাদনা থাকে লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীর মধ্যে। এবারে সেই উদ্দীপনা যেন কোনোভাবে ম্রিয়মান হয়ে পড়েছে। এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছে না রাম ঠাকুরের অগণিত ভক্তরাও। তারাও চান প্রতি বছরের মতো এই বছরেও সঠিক সময়ে বিসর্জন হোক। এত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় থাকুক। তাই প্রশাসনের এই নির্দেশকে নবান্ন থেকে ফের পর্যালোচনা করে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোট ৮০ জন লোক এই প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশের ফলে হাওড়ার রামরাজাতলার রামমন্দিরের রামচন্দ্রের বিরাট প্রতিমার নিরন্জনের ক্ষেত্রে আর কোনোরকম বাধা থাকলো না।
গত কয়েকদিন আগে নিরন্জন হওয়া না হওয়া নিয়ে দোলাচলে ছিলেন মন্দির কর্তৃপক্ষ ও আপামর ভক্তকুল। আগামি ১৬ই অগাস্ট ২০২০,রবিবার নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট মেনে “রাম বিসর্জন “হবে প্রশাসন সূত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খবর চাউর হতেই স্থানীয় ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থকদের একাংশ রামমন্দির প্রাঙ্গনে আবির মেখে,বাজি পুড়িয়ে, লোকজনদের লাড্ডু বিতরন করে উল্লাসে মাতেন। নবান্নের এই সিদ্ধান্তে খুশি রামভক্ত সহ আপামর হাওড়াবাসী।









